Thursday , October 29 2020
যৌতুকের বলি নিলুফার ইয়াসমিন সুমি

যৌতুকের বলি লালমনিরহাটের সুমি

‌‌‌‘‘বলতে পারো মা আমরা এতো গরিব কেন? শুধুমাত্র যৌতুকের জন্য আমার সংসার করা হলো না! আমার পাঁচ ভাই ইচ্ছা করলে যৌতুকের টাকা দিতে পারত।’’ আত্মহত্যা করার পূর্বে নিজ হাতে চিঠি লিখেছিলেন লালমনিরহাট পৌরসভার গার্ডপাড়া এলাকার নিলুফার ইয়াসমিন সুমি (৩৩)।

জনা যায়, ১০ বছর পূর্বে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোঘলহাট ইউনিয়নের কোদালখাতা গ্রামের আব্দুস ছামাদের ছেলে রবিউল আউয়ালের (৩৭) সাথে বিয়ে হয় গার্ডপাড়া এলাকার মৃত-মনসুর আলী সরকারের সর্বকনিষ্ট মেয়ে নিলুফার ইয়াসমিন সুমির (৩৩)। বিয়ে করার পড়ে যৌতুকের টাকার জন্য সু-কৌশলে সুমিকে পিতার বাড়িতে রেখে যায় স্বামী। পরিবার ও সুমির নিজ চেষ্টায় কয়েকবার স্বামীর বাড়িতে গেলে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে এক সপ্তাহের বেশি স্বামীর বাড়িতে থাকতে পারেননি। তবে রবিউলের টাকার প্রয়োজন হলে সুমির বাড়িতে এসে কয়েক দিন থাকার পর কখন ৫ হাজার, কখনও ৭ হাজার বা কখনও ১০ হাজার করে টাকা নিয়ে চলে যেত তার বাড়িতে। পর্যায়ক্রমে সুমি নিজের ও মায়ের দেওয়া ২ ভরি স্বর্ণ অলংকার স্বামীকে দিয়েছিলেন। তারপড়েও সবসময় মোবাইল ফোনে সুমির পরিবারের থেকে ব্যবসা করার জন্য মোটা অংকের টাকা এবং সাথে একটি মটরসাইকেল কিনে দিতে বলত রবিউল। টাকা ও মটর সাইকেল না পেয়ে এভাবেই দিনের পর দিন মোবাইলে সুমিকে মানসিকভাবে নির্যাতন করতে থাকে রবিউল। একপর্যায়ে কিটনাশক পান করে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন সুমি।

যৌতুকের বলি নিলুফার ইয়াসমিন সুমি

মৃত্যুর পূর্বে চিরকুটে লিখে যান, ‘আমার মৃত্যুর জন্য রবি (রবিউল) দায়ী’। সেই চিরকুটে আরও লিখেন, ‘এই মোবাইল ট্রাকিং করলে তোরা বুঝতে পারবি। রবি আমাকে আত্মহত্যার জন্য অনেক দিন ধরে চাপ দিয়ে আসছে। তোরা রবিকে ছাড়িস না। ইতি সুমি।’

লালমনিরহাট সদর থানার মামলা নং ৩৯, তারিখ ২৩/০৮-/২০২০ সুত্রে জানা যায়, গত ১৭ আগষ্ট দুপরে নিজ বাড়িত কীটনাশক পান করে নিলুফার ইয়াসমিন সুমি (৩৩)। পরিবারের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পয়ে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। কর্তব্যরত চিকিৎসক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে রাত ৮টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

স্বামী রবিউল আউয়াল এর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার স্ত্রী মানসিক রোগী ছিলেন, যৌতুকের বিষয়ে অস্বিকার করে বলেন, আমি ভালোবেসে বিয়ে করিছিলাম তাদের কাছে থেকে কখন কোনো টাকা চাইনি। তবে সুমি’র বড় ভাই আবুল কালাম আজাদ জুয়েল এসব কথা মিথ্যা দাবি করে বলেন, যৌতুকের টাকার জন্য সবসময় মানসিক ভাবে চাপ সৃষ্টির জন্য সুমি আত্মহত্যা পথ বেছে নিয়েছে।

মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান ঘটনারা সত্যাতা নিশ্চিত করে বলেন, লালমনিরহাট সদর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামালাটি তদন্ত চলমান রয়েছে, তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Check Also

ধর্ষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে

ধর্ষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে : ডিএমপি কমিশনার

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের …

One comment

  1. নাজমুল হোসেন

    এই আধুনিক যুগে এসব মেনে নেয়া যায় না, অচিরে এ হত্যার অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা হোক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *