Friday , October 30 2020
১৭ বছরেও চিকিৎসা জোটেনি মেয়েটির

১৭ বছরেও চিকিৎসা জোটেনি মেয়েটির

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ মেয়েটির চেহারা জীর্ণ-শীর্ণ। শারীরিক গঠন প্রায় কঙ্কালসার। দেখতে ৭ থেকে ৮ বছরের শিশুর মতো। অথচ তিনি ২০ বছরের তরুণী। শারীরিক অসুস্থতা ও অভাব–অনটনে ভিক্ষাবৃত্তি করে কাটে তাঁর জীবন। মেয়েটির নাম রোকিয়া আক্তার। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ডিঙ্গামানিক গ্রামে তাঁর বসবাস। মা–বাবা বেঁচে নেই এই তরুণীর। বর্তমানে এক চাচার আশ্রয়ে আছেন তিনি।

স্বজন ও গ্রামবাসীর ভাষ্য, রোকিয়া আক্তারের জন্ম ২০০০ সালে। ২০০৩ সালে তিনি জ্বর ও ঠান্ডায় ভোগেন। এরপর দীর্ঘদিন শ্বাসকষ্টে কাটে। ২০০৪ সালে হঠাৎ তাঁর মা পিয়ারা বেগম মারা যান। রোকিয়ার অসুস্থতা আরও বাড়ে। একপর্যায়ে তাঁর শারীরিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। এই সমস্যা দিন দিন আরও প্রকট হয়। দরিদ্র বাবা মেয়ের কোনো চিকিৎসা করাতে পারেননি। উল্টো অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে সংসার চালাতে বিক্রি করতে হয়েছে ভিটেমাটি।

এরই মধ্যে ২০১০ রোকিয়ার মানসিক প্রতিবন্ধী বড় বোন সীমা আক্তার (২৪) নিখোঁজ হন। আর ২০১৬ সালে তাঁর বাবা আলম শেখ মারা যান। এবার অভিভাবকহীন হয়ে পড়েন রোকিয়া। আশ্রয় মেলে চাচার বসতঘরের বারান্দায়। কিন্তু তাঁর খাবারের জোগান হবে কীভাবে? তাই বাধ্য হয়ে স্থানীয় কার্তিকপুর বাজার ও ডিঙ্গামানিক গ্রামে ভিক্ষা করতে শুরু করেন তিনি। অজানা দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৭ বছর পার হলেও অর্থের অভাবে এখনো চিকিৎসককে দেখাতে পারেননি মেয়েটি। ফলে কোনো চিকিৎসাও জোটেনি তাঁর।

দারিদ্র্য আর অর্থকষ্টে মেয়েটি ভীষণ কষ্ট পাচ্ছে। চিকিৎসা তো দূরের কথা, সে কী রোগে আক্রান্ত, তা–ও কেউ জানে না।

সুফিয়া বেগম, রোকিয়ার প্রতিবেশী চাচি

সম্প্রতি কার্তিকপুর বাজারে গিয়ে দেখা মেলে রোকিয়ার। বিভিন্ন দোকান ও ব্যক্তির কাছ থেকে ভিক্ষা চাইছেন ও খাবার সংগ্রহ করছেন। পরে তাঁর আশ্রয়স্থলে গিয়ে কথা হয় চাচাতো বোন তাসলিমা আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘রোকিয়ার আপন কেউ নেই। আমরাই এখন ওর আপনজন। আমার বাবা দরিদ্র মানুষ। ভাইয়েরা সংসার খরচ দেন। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর শতভাগ ব্যয় বহন করতে পারছি না। চোখের সামনে তাঁকে কষ্ট পেতে দেখে খারাপ লাগে। কিন্তু কী করার আছে। মেয়েটি সরকারি কোনো সহায়তা পান না, কেউ কোনো ভাতাও দেন না।’

রোকিয়ার প্রতিবেশী চাচি সুফিয়া বেগম বলেন, দারিদ্র্য আর অর্থকষ্টে মেয়েটি ভীষণ কষ্ট পাচ্ছে। চিকিৎসা তো দূরের কথা, সে কী রোগে আক্রান্ত, তা–ও কেউ জানে না। চেয়ারম্যান-মেম্বার সবাই তাঁর এই অবস্থার কথা জানেন। কিন্তু কেউ তাঁর পাশে দাঁড়াননি। ওর থাকার একটি ঘরও নেই। এভাবেই অবহেলা-অনাদরে একসময় তাঁকে হয়তো পৃথিবী থেকেই বিদায় নিতে হবে।

Check Also

গরু ছাড়াই ২০ বছর তেলের ঘানি টানছেন

গরু ছাড়াই ২০ বছর তেলের ঘানি টানছেন ৭০ বছরের বৃদ্ধ

ডিমলা, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ অভাবের সংসার। ভিক্ষা বৃদ্ধি বেঁছে না নিয়ে; বেছে নিয়েছে গরু ছাড়াই তেলের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *