Thursday , October 29 2020
সাড়া স্বাস্থ্য কথন

বিনামূল্যে টেলিমেডিসিন স্বাস্থ্যসেবা “সাড়া” এর প্রথম ফেসবুক লাইভ ” সাড়া – স্বাস্থ্য কথন”

গতকাল ২২ শে আগষ্ট, শনিবার রাত ৯ টায় বিনামূল্যে টেলিমেডিসিন স্বাস্থ্য সেবা সার্ভিস “সাড়া” আয়োজিত ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠিত হয়। সাড়া- স্বাস্থ্য কথন পর্ব-১ নামে নামে লাইভটি সাড়ার অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজ থেকে প্রচারিত হয়। প্রথম লাইভের বিষয় ছিল, “দেশে বিদেশের করোনা বাস্তবতা ও টেলিমেডিসিনের প্রয়োজনীয়তা”।

ফেসবুক লাইভের সূচনা বক্তব্য রাখেন, সাড়া এর উদ্যোক্তা, ইন্টেল কর্পোরেশন এর প্রিন্সিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং অংকুর ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শায়েস্তাগীর চৌধুরী, পিএইচডি। তিনি লাইভে উপস্থিত সকল অতিথির পরিচয় তুলে ধরেন। অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন যুক্তরাজ্য থেকে ডাঃ খোন্দকার মেহেদী আকরাম, এমবিবিএস, এমএসসি, পিএইচডি, সিনিয়র রিসার্চ এসোসিয়েট ফেকাল্টি অব মেডিসিন, ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ড, ইংল্যান্ড। ডা: নাহিদ ফাতেমা এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমসিপিএস, সার্জন (আবাসিক), বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডা: সিরাজুম মুনিরা লোপা, এমডি, এফএসিসি, সহকারী অধ্যাপক, ক্লিনিক্যাল মেডিসিন ও কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিসেস;উইল কর্ণেল মেডিকেল ইউনিভার্সিটি, লিংকন মেডিকেল সেন্টার, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র। লাইভটি সঞ্চালনা করেন ডাঃ অধ্যাপক সানজিদা শাহরিয়া, চিকিৎসক ও কাউন্সিলর, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার বাংলাদেশ।

বিনামূল্যে টেলিমেডিসিন স্বাস্থ্যসেবা "সাড়া"

দেড় ঘন্টাব্যাপী লাইভে দেশে এবং বিদেশে অবস্থানরত চিকিৎসকগণ এই সময়ে দেশ ও বিদেশের করোনাকালীন পরিস্থিতি, চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং সুযোগ সুবিধা ও প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরেন। লাইভে ডাঃ খোন্দকার মেহেদী আকরাম, করোনার ভ্যাক্সিন সংক্রান্ত বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে বলেন। করোনার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের কি কি প্রতিরোধ নেয়া উচিত তা তুলে ধরেন। আগামী শীতে করোনা প্রকটতা আরো বাড়তে পারে বলে আশংকা করেন। শুধুমাত্র ফোনকলের মাধ্যমে টেলিমেডিসিন সেবা নয়, প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আরো সহজভাবে সফটওয়্যার তৈরী করে গ্রাম পর্যায়ের মানুষের ব্যবহার উপযোগী বানানোর প্রস্তাব রাখেন। ডাঃ সিরাজুম মুনিরা, যুক্তরাষ্ট্রে করোনাকালীন সময়ে তিনি কিভাবে অসহায় রুগীরদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন এবং সেখানকার মানুষেরা তাকে যেভাবে শ্রদ্ধা এবং সম্মান জানাচ্ছেন তা বলেন। কোভিড -১৯ এর এই সময়ে পরিবার থেকে আলাদা থেকে মানুষের জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। কোভিড -১৯ এর সময়ে পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য, তার ৬ বছরের মেয়ের কাছ থেকেও সর্বোচ্চ সাপোর্ট পেয়েছেন। তার এই অভিজ্ঞতার কথা শুনে কিছু সময়ের জন্য আবেগঘণ হয়ে পড়েছিলো সবাই। তিনি আরো বলেন, “এর আগেও টেলিমেডিসিন সেবা চালু থাকলেও করোনাকালীন সময়ে সাধারণ মানু্ষেরা টেলিমেডিসিন সেবা বুঝতে শিখেছে এবং সহজে গ্রহণ করতে পারছে। “এই সময়ে সাড়ার এই প্রশংসনীয় উদ্যোগগে তিনি বাহবা জানান। কোন দেশের করোনা ভ্যাক্সিন কোন ফেইজে আছে, সে ব্যাপারে প্রাথমিক ধারণা দেন। ডাঃ নাহিদ ফাতেমা দেশে থেকে চরম প্রতিকূলতার মধ্যে রুগী দেখছেন, মানুষের সেবা করে চলেছেন, অপ্রতুল প্রতিরোধ সামগ্রী থাকা সত্ত্বেও রুগীদের সেবা দান থেকে বিরত থাকেননি।

তিনি এবং তার চিকিৎসক স্বামী সকল বাধাবিপত্তি পেরিয়ে এখনো অসুস্থ এবং জরুরী রুগীদের সেবা দিয়ে চলেছেন। তিনি আরো বলেন, “শুধুমাত্র দেশের ডাক্তার নয়, বিদেশী বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মাধ্যমে “সাড়া” সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বয়ষ্ক রুগী যাদের চলাফেরা করা খুবই কষ্টকর তাদের জন্য “সাড়া” টেলিমেডিসিন আশীর্বাদস্বরুপ।” সঞ্চালক ডাঃ অধ্যাপক সানজিদা শাহরিয়া, প্রথমেই সাড়ার শুরু কথা তুলে ধরেন। গত ২৬ শে জুলাই সকাল ৮ টা থেকে সাড়ার কার্যক্রম শুরু হলেও ১ মাস হতে না হতেই ইতোমধ্যে দেশের নানান প্রান্তের মানুষ সাড়ার সেবা পাচ্ছেন তা তুলে ধরেন। করোনাকালীন সময়ে শহীদ চিকিৎসকদের রুহের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। সাড়ার ব্যপ্তি দিন দিন বাড়ছে, সবাই সহজে গ্রহণ করে সেবা নিতে পারছেন ঘরে বসেই, তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “সাড়ার মাধ্যমে শুধুমাত্র বিনামূল্যে স্বাস্থসেবা নিশ্চিত হচ্ছে তা নয়, অংকুর ইন্টারন্যাশনালের অর্থায়নে চিকিৎসকের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “প্লাটফর্ম” থেকে সাড়ায় টেলিমেডিসিন সেবাদাতা ডাক্তারগণদের কর্মসংস্থানেও ব্যবস্থা করেছে সাড়া। টেলিমেডিসিন সেবার পাশাপাশি ডাক্তারদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সাড়া। সাড়ার সেবা পৌছে গিয়েছে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে। ছিটমহল হাতিয়া, দহগ্রাম অবধি সাড়া টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এই বিশ্বায়নের সময়ে শুধুমাত্র সাড়ার মাধ্যমেই সুদূর নিউইয়র্ক থেকে স্বাস্থ্যসেবা পৌছে যাচ্ছে প্রত্যন্ত ভুরুংগামারীতে। এরকম মেলবন্ধনের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব সাড়ার প্রাপ্য। আমাদের এই লাইভটিও এখন প্রত্যন্ত দ্বীপাঞ্চলের মানুষেরা দেখছে।” তিনি আরো বলেন দেশে-বিদেশে যে কোনো স্থান থেকে ‘সাড়া’-এর হটলাইন নাম্বার ০৯৬১২৩০০৯০০-এ ফোন করে ২৪ ঘন্টাই বিনামূল্যে পাওয়া যাবে এই চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা।

টেলিমেডিসিন স্বাস্থ্য সেবা

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অতিথিবৃন্দ সাড়ার জন্য শুভেচ্ছা জানায়। শুধু করোনাকালীন সময় নয়, সারা বছর যেন “সাড়া” এর মাধ্যমে যেকোন মানুষ, যেকোন সময় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারে সেই আশা ব্যক্ত করেন। আগামী ৫ বছরের মধ্যে যেন দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে টেলিমেডিসিন স্বাস্থ্য সেবা পৌছে দিতে পারে সেই ইচ্ছা পোষণ করেন অতিথিবৃন্দ।

উল্লেখ্য গত ২৬ শে জুলাই থেকে ২৪ জন ডাক্তার নিরলসভাবে প্রতিদিন, ২৪ ঘন্টা ১০০+ মানুষজনকে বিনামূল্যে টেলিমেডিসিন স্বাস্থ্য পরামর্শ এবং সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। সামনে আরো কিছুসংখ্যক ডাক্তার যুক্ত হয়ে প্রতিদিন আরো বেশি মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা দিবেন বলে জানিয়েছেন সাড়ার উদ্যোক্তাগণ।

Check Also

শ্বাসকষ্ট হয় যে কারণে

শ্বাসকষ্ট হয় যে কারণে

ডা. মো. সেরাজুল ইসলাম: শ্বাসকষ্ট হলে হাঁপানি ভেবে নানা ধরনের ওষুধ না খেয়ে আগে চিকিৎসকের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *