Friday , April 9 2021

রমযানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যেমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন: নজরুল ইসলাম

বৈশ্বিক করোনা মহামারীতে পুরো দুনিয়া যখন দিশেহারা, ঠিক তখনই রহমতের বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে আবারও আসছে পবিত্র রমযান মাস। প্রতি বছর এই মাসকে কেন্দ্র করে জনমনে বাড়তি উম্মাদনা বিরাজ করলেও এবছর করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এবারের রমযান মাস খানিকটা ব্যাতিক্রম।

কিন্তু প্রতিবছরই রমযানের মত পবিত্র মাসটির আগমন ঘটলেও শুদ্ধ হয়না কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর মন। কথায় আছে, ”চোরে না শোনে ধর্মের বাণী!” ফলে পবিত্র রমজানেও তাদের অতি মুনাফালোভী মানসিকতায় আসেনা পরিবর্তন হয়না যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ, রমযানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। দেশজুড়ে পুনরায় ৫ এপ্রিল থেকে সরকার করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামাল দিতে দেশজুড়ে পুনরায় লকডাউন ঘোষণা করেছেন। ফলে, করোনা আতঙ্কের মধ্যেই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে খানিকটা। রমজানের আগমনে ঘিরে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে আরো কয়েকগুণ। উন্নত বিশ্বে বা অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোতে রমযান মাস আসলে দ্রব্য মূল্যের দাম কমে যায় কয়েকগুণ আর বাংলাদেশের বাজারগুলোর নিত্যনৈমিত্তিক চিত্র পুরোটাই উল্টো। বাজারের প্রতিটি পণ্য যেমন: চাল, ডাল, তেল, ছোলা, পেঁয়াজ, আদা, কাঁচামাল থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি পণ্য কিনতে হয় মাত্রাতিরিক্ত মূল্যে।

চলমান করোনা আতঙ্ক ও লকডাউনে দেশের নিম্নবিত্ত ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীর সৃষ্টি হয়েছে চরম দূরবস্থা। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রিতে ঝামেলা পোহাচ্ছেন, রিকশাওয়ালারা রিকশা নিয়ে রাস্তায় নামতে পারছেন না, হকারদের বেচাবিক্রি বন্ধ, কুলিদের কাজ নেই, রাজমিস্ত্রি ঘরে বসে আছেন, বাসের চালক-হেলপারদের রোজগারের পথ নেই। সব দিনমজুরের উপার্জনের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে। ফলে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ যেমন চরম অসহায় দিনাতিপাত করছেন, এর ফলে স্বল্পপুঁজি ছিল যাদের, তাদের সঞ্চয়ও গত এক মাসে ফুরিয়ে এসেছে প্রায়! এমন সংকটে অসাধু ব্যবসায়ীরা যদি অধিক মুনাফার লোভ পোষণ করেন, তবে দরিদ্র মানুষের জন্য তা হবে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’।

তাই এবারের রমযানে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর অবস্থানে যেতে হবে সরকার ও প্রশাসনকে। বাজার মনিটরিং বাড়ানোর পাশাপাশি ছিন্নমূল মানুষের জন্য সরকারী আর্থিক অনুদান বাড়ানো যেতে পারে। সরকার চলমান করোনা মহামারী যেমন শক্ত হাতে মোকাবেলা করছে, তেমনি অসৎ ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যও থামিয়ে দেবে বলে আমরা আশা করছি।

লেখকঃ
মোঃ নজরুল ইসলাম
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ইমেইলঃ[email protected]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *