Friday , April 9 2021

তিস্তার চরে পেঁয়াজ চাষে ভূমিহীন কৃষকদের ভাগ্য ফিরেছে

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ তিস্তানদী পাড়ে জেগে ওঠা বিশাল চর এলাকায় পেঁয়াজসহ বিভিন্ন সবজি চাষাবাদে স্থানীয় ভূমিহীনদের দরিদ্রতা দূরীকরণের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে অংকুর ফাউন্ডেশন।

আর এ বছর নদীর চরে পেঁয়াজ চাষেই ভাগ্যবদল হয়েছে অনেক ভূমিহীন কৃষক পরিবার। তবে বিগত বন্যায় ও ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তরা, চরে চাষাবাদ করে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।পিয়াজেরর পাশাপাশি গম,ভূট্টা, মরিচ, আলুসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করছে ভূমিহীন কৃষকেরা।

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ী ও টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দোহলপাড়া,কিসামত ছাতনাই, উত্তরখড়িবাড়ী ও দক্ষিণখড়িবাড়ী গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তা নদীর পাড়গুলো শুস্ক মৌসুমে নদীতে চর পড়ে যায়। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নদী তীরবর্তী ভূমিহীনরা এ মালিকানা জমি একালিন জমি লিজ নিয়ে বালুচরকেই চাষাবাদের উপযোগি করে তুলেন। চর এলাকাকে চাষের যোগ্য করে তুলতে পরিবারের নারী কৃষানীরা এক সঙ্গে কাজ করে। আর নদীর চরে পেঁয়াজ চাষ করে অর্থনৈতিক সচ্ছলতাও এনে দিয়েছে অনেকের।

গত মৌসুমের ন্যায় এবছরও চরে পেঁয়াজ চাষ করেছেন স্থানীয় ভূমিহীন কৃষকরা। তবে এবছরে পেঁয়াজ গাছের সবুজ সমারহে বদলে গেছে নদীর দৃশ্য। এতে কাজ করছেন ঐ এলাকার এক ঝাঁক বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণ সেচ্ছাসেবক।অংকুর ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে, উপজেলার ৪৬ জন ভূমিহীন কৃষকদের মাঝে বিতরন করেছে পেঁয়াজ ও গম চাষে যাবতীয় কৃষি উপকরন।

পেঁয়াজ চাষিরা জানায়, নিজস্ব জমি না থাকায় তারা নদীর জেগে উঠা চরে চাষাবাদ করে থাকেন। বর্ষার সময় পানির সাথে যে পলি পড়ে তা পেয়াজ ক্ষেতের সার হিসেবে কাজে লাগে। এ কারণে নদীর চরে পেঁয়াজ চাষ লাভজনক।

বেড়িবাঁধে বসবাস করা ভূমিহীন কৃষক সাইদুল ও তার স্ত্রী চম্পা বোগম জানায় কয়েক বছর থেকে আমরা পেঁয়াজ চাষ করতাম। টাকা না থাকায় পেঁয়াজ আবাদের নিয়মিত সার,সেচ দিতে পারতাম না। তবে গত বন্যায় আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই। এবার অংকুরে ফাউন্ডেশনের জমি লিজ সহ হালচাষ,উন্নত সার-বীজ ও সেচের যাবতীয় খরচ পেয়ে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করছি। এবছর ফলন ভাল হয়েছে,নদীতে জোয়ার পানি বৃদ্ধির আগেই, স্বামী-স্ত্রীসহ পরিবারের সবাই এক সঙ্গে ফসল তুলার কাজ করছি।

Check Also

দেশে একদিনে করোনায় মৃত্যু ৬৬, শনাক্তের হারেও সর্বোচ্চ রেকর্ড

আহসান হাবীব, স্টাফ রিপোর্টারঃ মৃত্যু ও শনাক্ত দুদিকেই আবারও নতুন রেকর্ড গড়ল দেশ। সরকারি তথ্যমতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *